বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিস্ফোরক আইনের মামলায় কুলিয়ারচর বিএনপি’র ১৩ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর ‘মার্কিন দূতাবাসে নালিশের পর নালিশ করেও লাভ হয়নি’ কুলিয়ারচরে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি’র নির্বাচন-২০২২ অনুষ্ঠিত চাটখিলে ব্রাজিল সমর্থকদের ১৮০ ফুট পতাকা নিয়ে মিছিল টেকসই উন্নয়নে- নবায়ন যোগ্য জ্বালানী” প্রতিপাদ্যে আইডিইবি’র ৫২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঘিওরে নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত চাটখিলে পেট্রোল ঢেলে দোকান পোড়ানোর অভিযোগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশিত নবীগঞ্জে ইমামবাড়ী রাজরাণী সুভাগিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ ফ‌লোআপঃ বন মামলা থে‌কে রেহায় পে‌তে লাখ টাকার মিশ‌নে পাহাড়‌খে‌কো প্রবাসী সায়মন !

চর উদয়পুর সর: প্রা: বিদ্যালয়, ১৪-১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৪ শিক্ষক, প্র: শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

সকালের কন্ঠ
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৪ Time View

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট প্রতিনিধি:

যেখানে শিক্ষক সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। সেখানে ব্যতিক্রম বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চর উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেখা গেছে, বেলা সাড়ে ১০ টা বাজলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি কোনো শিক্ষার্থী। সকল শ্রেণী কক্ষ বন্ধ রেখে চার শিক্ষক মিলে গল্প করছিলো অফিস কক্ষে। বিদ্যালয়ের চারপাশে, শ্রেণিকক্ষ ও সিঁড়িতে রয়েছে ময়লার স্তুপ। এ প্রতিনিধির উপস্থিতি টের পেয়ে নড়েচড়ে বসে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ের এমন দুর্দশার জন্য প্রাক্তন ছাত্র, সাবেক অভিভাবক সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকদের সাথে কথা হলে সকলেই সংবাদ পত্রে লেখনীর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ রায়কে দায়ী করেন এবং এই বিদ্যালয়টি বাঁচানোর আকুতি জানান। তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্লিপের টাকা, করোনা কালীন সময়ে ইউনিসেফ থেকে প্রাপ্ত মাস্ক, সাবান, ব্লিসিং পাউডার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট আটকিয়ে রাখারও অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তারা অনতিবিলম্বে এই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন।

সকাল সাড়ে ৯ টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখা মেলে ৪ শিক্ষকের। সকল শ্রেণী কক্ষ বন্ধ। নেই কোনো শিক্ষার্থী। যেখানে সকাল ৯ টায় ক্লাস শুরুর কথা। সেখানে এমন চিত্র দেখে বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে সহকারী শিক্ষক বাশারুল হক বলেন, বিদ্যালয়টি চর এলাকায়, এখানকার অভিভাবকগণ অসচেতন। শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে ডেকে স্কুলে আনতে হয়। পরীক্ষার সময় ঠিক মতো তারা পরীক্ষা দেয়। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মোতাবেক এই স্কুল পরিচালিত হয়।

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক কাকলি মুখার্জি বলেন, আমরা শিক্ষকেরা সকালে স্কুলে আসি। তারপর প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মোতাবেক ছাত্র ছাত্রীদের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে তাদের স্কুলে এনে পাঠদান করায়। তারা কখনো নিজের থেকে স্কুলে আসে না। শিক্ষার্থী হাজিরা বহিতে ৫২ জনের নাম থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৫ জনের বেশি হাজির হয় না।

সহকারি শিক্ষক ইকরামুল হক বলেন, আমরা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে ছাত্র ছাত্রীদের ডাকতে তাদের বাড়ি যায়। আজ এখনো ডাকতে যায় নাই, তবে যাবো। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশ ক্রমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ডেকে এনে ক্লাস করানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মামুন বিশ্বাস রাজীব বলেন, এই বিদ্যালয়ের এমন দুর্দশার জন্য প্রধান শিক্ষক পরিতোষ রায় দায়ী। তিনি আসার আগে বিদ্যালয়টি ভালো ভাবে চলছিল। গত সাড়ে ৫ বছর আগে তিনি এই বিদ্যালয়ে এসেছেন। তখন থেকে শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিজের পছন্দ মত লোক দিয়ে কমিটি করে। কাউকে কোনো হিসাব দেয় না। সব কিছু আত্মসাৎ করার চিন্তা তার মাথায়। আমাকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেছেন, এমন সই বা স্বাক্ষর করবে যে সই বা স্বাক্ষর তোমার অনুপস্থিতিতে আমি করতে পারি। তার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার পকেটের লোক। তাকে ম্যানেজ করে এতদিন সব কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও করবে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবু বিস্বাস বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষাদানে প্রধান শিক্ষকের কোনো মন মানুষিকতা নেই। ঠিকমত বিদ্যালয়ে আসে না। বাচ্চাদের স্কুল মুখী করার জন্য সে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। এই বিদ্যালয়ে অনেক জাতীয় প্রোগ্রামে পতাকা উত্তোলন হয় না। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টি নোংরা করে রেখেছে। সে শুধু শিক্ষা অফিসারের দোহায় দেয়।

প্রধান শিক্ষক পরিতোষ রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ও সকল শিক্ষক এখন ছাত্র ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি যাবো। কিছুক্ষন পর তাদের নিয়ে আসবো এবং ১২ টার দিকে ক্লাস শুরু হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে এবছর ৫২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যেখানে হাজীরা বহিতে শিশু শ্রেণীতে ৪ জন, ১ম শ্রেণীতে ১৬ জন, ২য় শ্রেণীতে ৮জন, ৩য় শ্রেণীতে ১১ জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ৭ জন এবং ৫ম শ্রেণীতে ৬ জনের নাম রয়েছে। বাড়ি থেকে ডেকে এনে ক্লাস করাতে হয় বিধায় প্রতিদিন সর্বমোট ১৪/১৫ জন ছাত্র উপস্থিত হয়। তিনি আরও বলেন, এটা চরাঞ্চল বিধায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ কম। জোর করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে শিক্ষা দিতে হয়। পুরো বিদ্যালয় ও তার আশে পাশে নোংরার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহ: উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক পরিতোষ রায়।

মোল্লারহাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, চর উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং অসচেতন। শিক্ষার্থীদেরও অনেকে ইটভাটায় কাজ করে। কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে মৌখিকভাবে আমার নিকট অভিযোগ জানিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষক পরিতোষ রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। আমি তাকে অফিসে ডেকেছি। অনিয়মের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও
  • © All rights reserved shokalerkatho© 2023
Powered Sokaler Kontho
themesba-lates1749691102