মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিস্ফোরক আইনের মামলায় কুলিয়ারচর বিএনপি’র ১৩ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর ‘মার্কিন দূতাবাসে নালিশের পর নালিশ করেও লাভ হয়নি’ কুলিয়ারচরে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি’র নির্বাচন-২০২২ অনুষ্ঠিত চাটখিলে ব্রাজিল সমর্থকদের ১৮০ ফুট পতাকা নিয়ে মিছিল টেকসই উন্নয়নে- নবায়ন যোগ্য জ্বালানী” প্রতিপাদ্যে আইডিইবি’র ৫২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঘিওরে নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত চাটখিলে পেট্রোল ঢেলে দোকান পোড়ানোর অভিযোগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশিত নবীগঞ্জে ইমামবাড়ী রাজরাণী সুভাগিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ ফ‌লোআপঃ বন মামলা থে‌কে রেহায় পে‌তে লাখ টাকার মিশ‌নে পাহাড়‌খে‌কো প্রবাসী সায়মন !

কপিলমুনির মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ-১

সকালের কন্ঠ
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩২ Time View

শাহাজামান বাদশা,পাইকগাছা খুলনা

পাইকগাছার কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও: আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশে শুরুতে মহল বিশেষ দৌড়-ঝাঁপ শুরু হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে। মাদ্রাসায় তার নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নিয়োগ পরবর্তী মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে চটকদারী কবিরাজি ব্যাবসা, ঝাঁড়-ফুকের নামে অপচিকিৎসা, নিয়োগ বাণিজ্য, স্থানীয় মসজিদের খতিব পদ থেকে অপসারন ও সর্বশেষ ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধে জনতার আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এক রাজাকারের দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনায় অধিকতর সমালোচিত ও বহুবিতর্কিত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আবারো পার পেয়ে যাচ্ছেন।
অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির আগে তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার লাউড়ী রামনগর কামিল এম,এ মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ঐ প্রতিষ্ঠানে ১/৭/১৯৯৪ সালে যোগদান করেন এবং ১৬/১১/১৯৯৭ সালে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যার ইনডেক্স নং-৩৬৪৩৮২।
এরপর ২০১৩ সালের ৩ মে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে ঐ বছরের ৬ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষায় তাকে উত্তীর্ণ করা হয়। যদিও সরকারী পরিপত্র সর্বশেষ জনবল কাঠামোর পরিশিষ্ট ১১(২) ’ঘ’তে বর্ণিত কাম্য সংখ্যক অভিজ্ঞতা ১৫ বছর থাকার কথা থাকলেও তার অভিজ্ঞতা ছিল ১৪ বছর ২ মাস। এছড়া জনবল কাঠামো ২০১০ এর পরিশিষ্ট ১১(২) অনুচ্ছেদেও বর্ণনামতে তিনি ঐ পদে নিয়োগ পেতে পারেননা। ১৯৯৫ সালের জনবলকাঠামোর ১৪ নং ধারায় ‘এক প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরী ত্যাগ করার পর অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদানকালীণ সময়ের ব্যবধান ৬ মাসের অধিক হলে উক্ত মেয়াদ অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে গণ্য হবেনা।’ সে আলোকে তার ব্রেক অব সার্ভিস (চাকুরি বিরতি) হয়েছে এবং একই কারণে তার পূর্বের অভিজ্ঞতা গণনা যোগ্য হবেনা। অর্থাৎ ১৭/১১/১৯৯৭ থেকে ২৮/২/১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেননা। এমন পরিস্থিতিতে তিনি চাকুরি বিরতি কালীণ সময়কে চাকুরিকাল দেখিয়ে প্রভাষকের টাইম স্কেল গ্রহনপূর্বক একইভাবে চাকুরি বিরতি সময়কে অভিজ্ঞতা গণনা করে সেখানে অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেন। যার ফলে তার আবেদনপত্রটি বাছাই পর্বে বাতিল হওয়ার কথা ছিল। অথচ তৎকালীণ নিয়োগ কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে সেখানে নিয়োগ দেন।
এদিকে ঐসময় তার অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কপিলমুনি প্রেসক্লাবের তখনকার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বজলু শিক্ষামন্ত্রনালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রেজিষ্টার, ব্যানবেইজ’র পরিচালক, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তদন্ত শুরু হলে একপর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে খুলনা মজিদ মেমোরিয়াল কলেজের তৎকালীণ অধ্যক্ষ অমলেশ চন্দ্র রায়কে নিযুক্ত করা হয়। যার স্মারক নং-১জি/৬৭৪-বিঃ-২০১১/৭২৩৫/৬ বিশেষ, তারিখ-৩০/১০/২০১৩। তিনি ঐসময় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে আবেদনকারীকে বাদ রেখে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। যদিও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ হলে সেসময় দেশত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমান। এছাড়া ঐ সময় আব্দুস সাত্তার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বজলুকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও বিভিন্ন প্রকার হুমকি এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। এঘটনায় আমিনুল ইসলাম বজলু গত ২৮/৮/১৩ তারিখে পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং-১২১৯। সামগ্রিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও এক অদৃশ্য ইশারায় তার বিরুদ্ধে তখন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এছাড়া অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পরবর্তী তিনি মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে আলাদা দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে কবিরাজি ও দাওয়াখানা খুলে বসেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে ঝাঁড়-ফুকের নামে জনৈকা মহিলাকে শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে খবর প্রকাশে কপিলমুনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে মূলত খানিকটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও একদিনের জন্য হলেও তার চাকুরীর পাশাপাশি ঝাঁড়-ফুক ও কবিরাজি ব্যবসা বন্ধ হয়নি।
সর্বশেষ ৭১’র মহানমুক্তিযুদ্ধকালীণ দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান রাজাকার ঘাঁটি পতনের পর আতœসমর্পণকৃত রাজাকারদের জনতার আদালতে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অন্যতম রাজাকার স্থানীয় নোয়াকাটি গ্রামের আফসার সরদারের পারিবারিক পৃথক দু’দিনের দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনার খবর প্রকাশে সমালোচনায় নতুন পালক যোগ হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
যদিও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনার ব্যাপারে অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, তিনি কোন দোয়া অনুষ্ঠানে কোন একজন নয়, মূলত সকল মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনা করে থাকেন বলে দাবি করেন। তবে তার নিয়োগ বা কবিরাজি সংক্রান্তের বিষয়গুলি কৌশলে এড়িয়ে যান।

শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও
  • © All rights reserved shokalerkatho© 2023
Powered Sokaler Kontho
themesba-lates1749691102